Breaking

Showing posts with label অন্যান্য. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য. Show all posts

Wednesday, 7 July 2021

July 07, 2021

ফুলের ছবি | ১০০০+ ফুলের পিক Download করুন

গোলাপ ফুলের ছবি

ফুলের ছবি download


ফুলের ছবি প্রয়োজন? ফুলের ছবি download করতে চান? এখানে পাবেন সুন্দর গোলাপ ফুলের ছবি।অনেকেই ফেসবুকে ফুলের পিক আপলোড করতে চান। এজন্য ইন্টারনেট থেকে নিজের পছন্দের ফুলের ছবি ডাউনলোড করে নিতে হয়। আপনার জন্য এখানে রয়েছে অসংখ্য ফুলের ছবি গোলাপ

প্রিয়জনকে ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটস অ্যাপে সুন্দর সুন্দর গোলাপ ফুলের ছবি hd উপহার দিতে চান? তাহলে এখান থেকেই আকর্ষণীয় সব গোলাপ ফুলের ছবি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।



ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারের জন্যও আমরা অনেকেই গোলাপ ফুলের ছবি চাই

ফুলের ছবি ও নাম চাই ? এখানে বিশাল ভান্ডার থেকে ডাউনলোড করে নিন আপনার পছন্দের ফুলের ছবি

এই অসম্ভব সুন্দর সুন্দর সব ফুলের পিক আপনার মন কাড়বেই। তবে ফুলের ছবিগুলো প্রফেশনাল গ্রাফিক ডিজাইনারের মাধ্যমে কাজ করা। এতে ছবিগুলো হয়েছে আরও আকর্ষণীয়।

ফুলের ছবি

 ফুলের পিক ডাউনলোড করুন 


    ফুলের ছবি, নাম ও পরিচিতি


    ফুলের ছবি ডাউনলোড করার পাশাপাশি এখানে পাবেন ফুলের ছবি ও নাম, ফুলের পরিচিতি।পৃথিবীতে কত যে সুন্দর সুন্দর ফুল রয়েছে তার সবগুলো কি আমরা চিনি?পৃথিবীর কথা বাদই দিলাম আমাদের বাংলাদেশেই যে সব ফুল জন্মে তার সবগুলোই কি আমাদের পরিচিত?দেখা যাবে বাস্তবে ঘুরে ফিরে কয়েকটি ফুলই আমরা চিনি মাত্র!বেশিরভাগ ফুলই আমাদের অপরিচিত।দেখলেও নাম বলতে পারবোনা।



    আসুন আমার মতো যারা ফুল ভালবাসেন আমরা বেশ কিছু ফুলের পরিচিতি জেনে নিই।ফুল পছন্দ করেননা এমন মানুষ নিশ্চয়ই কমই আছেন।তাহলে চলুন সচরাচর আমাদের চোখে পড়ে এমন কমন ফুল থেকেই আমাদের ফুলের পরিচয় পর্ব শুরু করা যাক!


    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি


    গোলাপ ফুল সবসময়ই সবার পছন্দের ফুল। অনেকেই নিজের মনের কথা গোলাপ দিয়ে প্রকাশ করে। আমাদের সবার মোবাইল ফোনে কিছুনা কিছু গোলাপ ফুলের ছবি পাওয়া যাবে। গোলাপ প্রেমীদের জন্য আমি এখানে নিয়ে আসছি কয়েকটি নতুন গোলাপ ফুলের ছবি। আশা করছি প্রিয় পাঠকদের ভালো লাগবে।

    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি

    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি ২

    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি ৩

    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি

    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি ৫

    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি ৬

    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি

    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি ৯

    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি ৮

    গোলাপ ফুলের নতুন ছবি ৭




    শাপলা ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    শাপলা ফুল চেনেনা এমন কেউ বাংলাদেশে আছে বলে মনে হয়না। শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল।ইংরেজি নাম Water lily।বাংলাদেশের খাল, বিল, হাওড়,নদী সর্বত্রই শাপলা ফুল চোখে পড়ে। এর সৌন্দর্য দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ। সারা বিশ্বে শাপলা ফুলের প্রায় আশিটি জাত রয়েছে। এর মধ্যে সাদা শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়াও লাল শাপলা ফুলও বাংলাদেশের সর্বত্র কম বেশি চোখে পড়ে। শাপলা ফুলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি পানিতে জন্মে।জাতীয় ফুল হিসেবে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হওয়ায় শাপলা ফুল দিয়েই শুরু করা হলো আমাদের ফুলের পরিচিতি।

    শাপলা ফুলের ছবি
    শাপলা ফুলের ছবি

    ফুলের ছবি গোলাপ: গোলাপ ফুলের ছবি ও পরিচিতি




    বাংলায় গোলাপ ইংরেজিতে Rose।পৃথিবীর সবচেয়ে সুপরিচিত এবং জনপ্রিয় ফুল সম্ভবত এই গোলাপ ফুল। ফুলের রাণী হিসেবে সবাই চেনে এই গোলাপকে। সৌন্দর্য এবং ভালবাসার প্রতীক হিসেবে সবাই স্বীকৃতি দিয়েছে গোলাপ ফুলকে। নানা বর্ণের প্রায় ১০০ প্রজাতির গোলাপ রয়েছে পৃথিবীজুড়ে। তবে লাল গোলাপ সবচেয়ে সহজলভ্য।

    ফুলের ছবি গোলাপ


    beautiful rose




    nice rose
    গোলাপ ফুলের ছবি

    পদ্ম ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    Lotus বা পদ্ম হলো শাপলার মতোই আরেকটি জলজ প্রজাতির ফুল। অনেকেই একে জলজ ফুলের রাণী বলে।এটি ভারতের জাতীয় ফুল।এছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পদ্ম একটি পবিত্র ফুল।পদ্ম ফুলের রং লাল, সাদা এবং গোলাপীর মিশ্রণ।বর্ষাকালে পদ্ম ফুল ফোটা শুরু হয় এবং শরৎকালে বেশি পরিমাণে দেখা যায়।বাংলাদেশের সর্বত্রই যেখানে সারাবছর পানি থাকে এরকম জলাশয়ে পদ্ম ফুল ফুটতে দেখা যায়।

    পদ্ম ফুলের ছবি
    পদ্ম ফুল





    কদম ফুলের ছবি ও পরিচিতি

    বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান,
    আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান।।
    কদম ফুলের মাহাত্ম্য রবীন্দ্রনাথের মতো আর কেউ মনে হয় উপলব্ধি করতে পারেনি।বনে বাদাড়ে অবহেলায় জন্ম নেয়া এই ফুলকে নিজের গানের মাঝে নিয়ে এসে প্রকৃতি ও ফুল প্রেমীদের যেন চোখ খুলে দিয়েছেন তিনি।আষাঢ়, শ্রাবণ মাস অর্থাৎ বর্ষাকাল কদম ফুল ফোটার আদর্শ সময়। কদম ফুল আমরা সবাই চিনি।ছোট বেলায় সবাই খেলেছি এই ফুল দিয়ে।বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই দেখা মেলে কদম ফুলের।


    কদম ফুলের ছবি
    কদম ফুল

    সূর্যমুখী ফুলের ছবি ও পরিচিতি

    সূর্যমুখী(Sunflower) বাংলাদেশে খুবই পরিচিত একটি ফুল।সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলেই এর এমন নাম।পূর্নবয়স্ক সূর্যমুখী ফুল আকারে অনেক বড় এবং দেখতে খুবই সুন্দর।শুধু ফুল হিসেবেই এটি পরিচিত নয়। সূর্যমুখী ফুলের উপকারিতা অনেক।সূর্যমুখী ফুলের বীজ ভোজ্যতেল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।ভোজ্যতেল হিসেবে চাহিদা থাকায় সূর্যমুখী ফুল চাষ লাভজনক।শোনা যায় ১৯৭৫ সাল থেকেই বাংলাদেশে সূর্যমুখী ফুল চাষ করা হচ্ছে।এর মধ্যে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এটি ব্যাপকভাবে চাষ করা হচ্ছে।কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকায় সূর্যমুখী তৈল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।


    সূর্যমুখী ফুলের ছবি
    সূর্যমুখী ফুল

    জবা ফুলের ছবি ও পরিচিতি

    জবা ফুলের নাম শোনেননি বা দেখেননি,জবা ফুল চেনেন না এমন লোক কি বাংলাদেশে খুৃঁজে পাওয়া সম্ভব?জবা ফুলের বৈশিষ্ট্য খুবই সাধারণ।ফুলের রং সাধারণত লাল এবং গন্ধহীন।জবা ফুল দেখতে সুন্দর।বাংলাদেশের আনাচে কানাচে এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে জবা ফুল ফোটেনা।সারা বছরই জবা ফুল ফুটতে দেখা যায় তবে গ্রীষ্মকাল এবং শরৎকালে এ ফুল বেশি দেখা যায়।বলা যায় যার একটি শখের ফুলের বাগান আছে তার বাগানে অবশ্যই অন্তত একটি জবা ফুলের গাছ আছে।


    জবা ফুলের ছবি
    জবা ফুল

    গাঁদা ফুলের ছবি ও পরিচিতি

    গাঁদা ফুল খুবই সুপরিচিত একটি ফুল।যে কোনো বাগানপ্রেমিদের বাগানের কমন ফুল হলো গাঁদা।এটি শীতকালীন ফুল হলেও গ্রীষ্ম এবং বর্ষাতেও ফোটে।নব্বুই এর দশক থেকে এটি বাংলাদেশে চাষ করা হয়।ঘরবাড়ি সাজানো, উৎসব, পূজা পার্বণে গাঁদা ফুল ব্যাপকভা‌বে ব্যবহৃত হয়।



    ফুলের ছবি ফুলের পিক
    গাঁদা ফুল





    রজনীগন্ধা ফুলের ছবি ও পরিচিতি

    রজনীগন্ধা ফুল ভালোবাসেননা এমন লোক মনে হয় খুঁজে পাওয়া যাবেনা।সাদা রঙের মনোমুগ্ধকর এ ফুল সর্বত্রই জনপ্রিয়।এর রয়েছে প্রাণমাতানো সুবাস।বিভিন্ন উৎসব,অনুষ্ঠানে রজনীগন্ধা ফুলের রয়েছে ব্যাপক কদর।প্রিয়জনকে একটি সুন্দর ফুলের তোড়া উপহার দিতে চান?রজনীগন্ধা ফুল ছাড়া সেই ফুলের তোড়া অসম্পূর্ণই মনে হবে।সারা দেশে এবং সারা বছরই এর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে রজনীগন্ধা ফুল।পাঠকদের জন্য দেয়া হলো সুন্দর একটি রজনীগন্ধা ফুলের ছবি।

    রজনীগন্ধা ফুলের ছবি
    রজনীগন্ধা ফুল


    গন্ধরাজ ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    বাংলাদেশ ও ভারতে গন্ধরাজ বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি ফুল। ফুল প্রেমীদের কাছে গন্ধরাজের বেশ কদর রয়েছে। তীব্র মন মাতানো সুগন্ধের জন্যই এ ফুলের এমন নাম। এ ফুল গ্রীষ্মকালে ফোটে এবং পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়েই এ ফুলের ব্যাপ্তি। এটি চিরসবুজ এবং গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। ফুলের আকার আকৃতি অনেকটা গোলাপের মতো হলেও ফুলের রং ধবধবে সাদা।


    গন্ধরাজ ফুল
    গন্ধরাজ ফুল




    বেলি ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    বেলির ইংরেজি: Arabian jasmine এবং  বৈজ্ঞানিক নাম: Jasminum sambac   এটি একটি সুগন্ধী সাদা ফুল। এর পাতা একক ও গাঢ় সবুজ রংয়ের হয়।এই ফুল গাছের উচ্চতা এক মিটারের মতো হয়।  সাধারণত  গ্রীষ্ম ও বর্ষায় এই ফুল ফোটে। ফুলের আকার ও গড়ন অনুসারে তিনটি জাত পাওয়া যায়।আমাদের দেশে অলংকার  হিসেবে বেলি ফুলের ব্যাপক ব্যবহার হয় এছাড়াও ফুলের তোড়া ও মালা তৈরিতে এর ব্যবহার অধিক।


    বেলি ফুল




    জুঁই ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    বাংলাদেশ ও পৃথিবীর আরও কয়েকটি দেশে জুঁই খুব জনপ্রিয় ফুল।এর বৈজ্ঞানিক নাম Jasminum ও ইংরেজি নাম Jasmine.জুঁই এর পাতা শীতকালে ঝরে আবার কোনো কোনো গাছ সারা বছর সবুজ থাকে।  জুঁই ফুল সাদা ও হলুদ হয়।এই গাছের  পাতা  উল্টোদিকে গজায়। সাধারণত জুঁই ফুলের জন্য এ গাছের চাষ হয়।এই ফুলের অপরুপ সৌন্দর্য ও মিষ্টি সুগন্ধের জন্যই এর চাষ হয়। বিয়ে এবং হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে  জুঁই ফুল ব্যবহার করা হয়।

    জুঁই ফুল



    ডালিয়া ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    ডালিয়া তার অপরুপ সৌন্দর্য দিয়ে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে। এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Dahlia Variailis । মধ্য আমেরিকা এবং মেক্সিকোতে জন্মানো অসাধারণ সুন্দর ফুল ডালিয়া। ডালিয়া হলো শীতকালীন মৌসুমি ফুল। এই ফুল অন্যান্য ফুলের তুলনায় অনেক বড়,অসম্বব সুন্দর এবং আকর্ষণীয় রঙের হয়। ডালিয়া মেক্সিকোর জাতীয় ফুল। এই ফুলের ৪২ টি প্রজাতি এবং ১১টি জাত আছে। ডালিয়া ফুলের আকার পরিবর্তন হয়। অ্যানেমিন ফাওয়ার্ড, কলারেট, পিওনি ফাওয়ার্ড, ইন ফরমাল ডেকোরেটিভ, ডবল শো ফ্যান্সি, পম্পন, রয়্যাল হোয়াইন, ইত্যাদি ডালিয়া ফুলের কয়েকটি জাত।


    ডালিয়া ফুলের ছবি




    জিনিয়া ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    জিনিয়া একটি অসাধারণ সুন্দর ফুল। এর বৈজ্ঞানিক নাম zinnia elegans এবং এর ইংরেজি নাম হলো zinnia। এটি একটি বিরুৎ প্রজাতির উদ্ভিদ। এই ফুল সাদা লাল হলুদ বেগুনি কমলা ইত্যাদি বিভিন্ন রঙের হয়। তাই এই ফুল বাহারী রঙের ফুল নামে পরিচিত।

    জিনিয়া ফুলের ছবি


    নয়নতারা ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    নয়নতারা বাংলাদেশের খুবই জনপ্রিয় একটি ফুল।বাংলায় এটিকে নয়নতারা বলে।ইংরেজীতে peri Winkle এবং এই ফুলের বৈজ্ঞনিক নাম vinca roses. এই গাছ তাড়াতাড়ি চারপাশে চড়িয়ে যায়।এর কান্ড ও পাতা গাঢ় সবুজ এবং কান্ডগুলো নরম ও রসালো হয়। নয়নতারা ফুল গন্ধহীন কিন্তূ খুবই আকর্ষণীয়। নয়নতারা ফুল বিভিন্ন রঙের হয়ে তাকে। এই ফুলের কালো রঙের বীজ হয়।এই ফুল গাছের বিভিন্ন অংশ নানা রোগের উপশম ঘটে।

    নয়নতারা ফুল



    রঙ্গন ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    রঙ্গন অসাধারণ সুন্দর একটি ফুল। এর ইংরেজী নাম lxora এবং বৈজ্ঞনিক নাম Ixora coccinea। রঙ্গন ফুলের গাছ ঘনসবুজ হয় এবং এটি একটি    গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। বীজ থেকে এবং গাছের ডাল কেটে লাগিয়ে এই ফুল গাছের বংশবিস্তার করা যায়। রঙ্গন ফুল লাল হলুদ গোলাপী ইত্যাদি বিভিন্ন রঙের হয়।

    রঙ্গন ফুল



    টগর ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    টগর বাংলাদেশের খুব পরিচিত একটি ফুল। যদিও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর নাম ভিন্ন।সাধারণত ঝোপঝাড়ের মতো এই ফুলের গাছ।এর বৈজ্ঞানিক নাম Tabernaemontana divaricata.
    এই ফুল এশিয়া আফ্রিকাসহ নানা অঞ্চলে দেখা যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রচলিত নাম দুধফুুল,কাঠ মালতী,কাঠমল্লিকা ইত্যাদি। টগর সাধারণত দুই ধরনের হয়।একক টগর এবং থোকা টগর।এই গাছ বন বাদাড়ে এমনিতেই জন্মে।বিশ্বে এর ৪০টি প্রজাতি আছে।বাংলাদেশে ৪টি পাওয়া যায়। 

    টগর ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    টিউলিপ ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    টিউলিপ একটি অতীব সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফুল।এর বৈজ্ঞানিক নাম Tulipa.
    এই ফুল অনেকে পাত্রে বা টবে লাগিয়ে থাকে। এছাড়াও বানিজ্যিকভাবে এটি জমিতে ও চাষ করা হয়। টিউলিপ সাধারনত বসন্তকালীন ফুল হিসাবে পরিচিত। এই ফুলের ১৫০টির মতো প্রজাতি আছে। টিউলিপ ফুল বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে এই ফুলগুলো অনেকটা কাপ ও তারার মতো হয়ে থাকে। বেশিরভাগ সময় একটি ডাটা থেকে একটি মাত্র ফুল হয় দু একটা প্রজাতি ছাড়া। টিউলিপ গাছে সাধারণত দুই থেকে ছয়টি পাতা থাকে তবে প্রজাতিবেদে এর পাতা একটু কম বেশি হয়। একটি গাছে ১২টির বেশি পাতা হয় না।


    টিউলিপ ফুলের ছবি ও পরিচিতি



    অপরাজিতা ফুলের ছবি ও পরিচিতি

    অপরাজিতা খুবই সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফুল। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো clitoria ternatea.এটি ফুল সাধারণত ফ্যাবেসি প্রজাতির একটি ফুল। অপরাজিতা ফুল গাঢ় নীল রঙের হয়। তবে কিছু কিছু  জায়গায় সাদা অপরাজিতা ও দেখা যায়।

    অপরাজিতা ফুলের ছবি

    অপরাজিতা ফুলের ছবি ও পরিচিতি


    হাসনাহেনা ফুলের ছবি ও পরিচিতি



    হাসনাহেনা এমন একটি ফুল যার ঘ্রাণ আপনাকে মুগ্ধ করে দেবে। তবে হাসনাহেনা দেখতে খুব সাদামাটা একটি ফুল। লতানো এক ধরনের ঝোপাল গাছ এটি। ডালের গায়ে সাদা সাদা তিলের মতো থাকে, এগুলোকে ল্যান্টিসেল। হাসনাহেনা ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি প্রজাতি। পাতা লম্বা হয়। নলের মতো পাঁচ পাপড়ি বিশিষ্ট সাদা ফুল হয় এবং এই ফুল সন্ধ্যা বেলা ফোটে। হাসনাহেনা ফুলে এতোই সুগন্ধ যেখানেই থাকে গন্ধ দিয়ে জানান দেয়।
    হাসনাহেনার বৈজ্ঞানিক নাম Cestrum nocturnum।এই ফুলের অনেকগুলো ইংরেজী নাম রয়েছে সেগুলো হলো

    lady of the night,
    night-blooming jessamine,
    night-scented jessamine, 
    night-scented cestrum



    হাসনাহেনা ফুলের ছবি ও পরিচিতি

    Monday, 30 November 2020

    November 30, 2020

    daraz দারাজ অনলাইন শপিং রিভিউ

    দারাজ অনলাইন শপিং


    দারাজ ডট কম, দারাজ অনলাইন শপিং


    সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অনলাইন শপিং মল সমূহের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভালোই ব্যাবসা করছে ই কমার্স ওয়েবসাইটগুলো। তবে বাংলাদেশের ই কমার্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবার প্রথমে বলতে হয় দারাজ অনলাইন শপিং, আজকের ডিল এবং ইভ্যালির কথা। এ তিনটি ই কমার্স ওয়েবসাইটের পরিচিতিই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে।


    আগামীতেও অনলাইন শপিংয়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি কারণ ইন্টারনেট সহজলভ্য হচ্ছে। স্মার্টফোনে সহজেই ইন্টারনেট ব্যাবহারের সুবিধা থাকায় ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া সামাজিক প্রচার মাধ্যম সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ই কমার্স ওয়েবসাইটগুলোর প্রচার প্রচারণার ফলে অনলাইন শপিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং এ আগ্রহ তরুণ তরুণীদের মধ্যেই বেশি। আরও পড়ুন বিকাশ একাউন্ট লক হলে করনীয়

    ই কমার্স বা অনলাইন শপিং নিয়ে এই লেখাটি কাদের জন্য?


    বাংলাদেশের অনলাইন শপিংয়ের বাজারে বড় একটি  জায়গা দখল করে আছে ই কমার্স কোম্পানি daraz bd। এই পোস্টের আলোচ্য বিষয় মূলত daraz কে নিয়েই। দারাজের একজন নিয়মিত গ্রাহকের মুখ থেকে শুনবো daraz bd তে তার শপিংয়ের অভিজ্ঞতা। একজন গ্রাহক হিসেবে দারাজ ডটকম থেকে সে কেমন সেবা পেয়েছে এবং কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে কিনা বিস্তারিত শুনবো তার কাছে। যারা অনলাইনে শপিং করার আগে ভালোমন্দ ও বিশ্বস্ততা যাচাই করতে চান তাদের জন্য উপকারী হতে পারে লেখাটি। আরও পড়ুন ১০০০+ ফুলের ছবি ডাউনলোড করে নিন।

    দারাজ কি? দারাজ ডট কম এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি



    ২০১২ সালে বাংলাদেশে ব্যাবসা শুরু করে অনলাইন শপিং মল দারাজ। অবশ্য এটি বাংলাদেশের কোনো e-commerce প্রতিষ্ঠান নয়। মূলত জার্মানির কোম্পানি রকেট ইন্টারনেটের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এই daraz ই-কমার্স বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও নেপালেও অনলাইনে ব্যাবসা চালিয়ে আসছে।

    জার্মানির রকেট ইন্টারনেট ও কাতারের ওরিডু গ্রুপের মিলিত ভেঞ্চার হিসেবে ২০১৫ সালে চালু করা হয় এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারনেট গ্রুপ বা এপিএসিআইজি। এশিয়া মহাদেশে উদীয়মান যত ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার সুযোগ রয়েছে সেগুলিকে কাজে লাগানোর জন্য তারা কার্যক্রম শুরু করে। এপিএসিআইজি এ পর্যন্ত বেশ কিছু কোম্পানিকে দাঁড় করায়, যার মধ্যে রয়েছে লামুডি, দারাজ ডট কম, লাজাডা, জালোরা ইত্যাদি।

    সর্বশেষ খবর হলো সম্প্রতি মে ২০১৮তে চীনের জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপ কিনে নিয়েছে daraz bd কে। ফলে দারাজ এখন আরো আধুনিক রূপে ই-কমার্স ব্যাবসার পথে অগ্রসর হচ্ছে। আরও পড়ুন ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরির নিয়ম

    বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ এখনও অনলাইন শপিংয়ে আগ্রহী নয় কেন? 


    অনেকেই জানেন অনলাইনে কেনা কাটা করা যায়। কিন্তু এখনো সবার আস্থা নেই অনলাইন শপিংয়ে। অনেকেই কোনো ই কমার্স ওয়েবসাইটের পণ্য পছন্দ হলেও দ্বিধায় ভোগেন কিনবেন কিনা। এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো কারণ আছে। যেমনঃ
    • বাংলাদেশের মানুষ দর দাম করে কেনাকাটায় অভ্যস্ত। ফিক্সড রেটে পণ্য ক্রয় করলে ঠকতে হয় এমনই ধারণা অনেকের।
    • শুধু পণ্যের ছবি দেখে এবং বর্ণনা পড়েই পণ্য পছন্দ করতে হয়। বাস্তবে পণ্যের সাথে এসব ছবি এবং বর্ণনা ১০০% নাও মিলতে পারে বলে অনেকের বিশ্বাস।
    • এছাড়াও পণ্যের ডেলিভারির জন্য সময় এবং খরচেরও একটি বিষয় আছে।
    এসব কারণেই বেশিরভাগ মানুষ অনলাইন শপিংয়ে পিছপা হন বা আগ্রহী হন না।

    নিয়মিত অনলাইনে কেনাকাটা করেন হবিগঞ্জের নজরুল খান। হবিগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সিভিল ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র তিনি। তবে Online shopping এ তার প্রথম পছন্দ দারাজ ডটকম। এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হলো তার সঙ্গে। আসুন e commerce website daraz থেকে কেনাকাটা করার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা জেনে নেয়া যাক!


    প্রথমেই প্রশ্ন করলাম daraz থেকে শপিং করতে পছন্দ করেন কেন?

    উত্তরে বললেন e commerce ওয়েবসাইটগুলোর মাঝে daraz এর সেবার মান সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তাই।

    কতদিন আগে থেকে daraz এ কেনাকাটা করেন?
    -- ২০১৬ সাল থেকে।

    এ পর্যন্ত কতগুলো পণ্য কিনেছেন daraz থেকে?
    -- ১৫টি পণ্য কিনেছি।

    পণ্যের গুনগত মান কেমন ছিলো?
    --ভালোই তবে দুটি পণ্য ফেরত পাঠাতে হয়েছে কোয়ালিটি খারাপ হওয়ার কারণে।

    পণ্য দুটি কি কি ছিলো এবং কি সমস্যা ছিলো?
    -- পণ্য দুটি ইলেকট্রনিক্স পণ্য ছিলো। একটি Kemei ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক শেভার এবং আরেকটি মোবাইলের ক্যামেরা লেন্স। শেভারটির পাওয়ার অন হতোনা এবং লেন্সের পিকচার কোয়ালিটি খুব খারাপ ছিলো।

    পণ্যগুলির মূল্য কতো ছিলো এবং কি ব্যাবস্থা করলেন?
    -- ইলেকট্রিক শেভারের মূল্য ছিলো ৮০০ টাকা এবং লেন্সের মূল্য ২০০০ টাকা। ইলেকট্রিক শেভারটি ফেরত দিয়ে এর পরিবর্তে ভাউচার কুপন নিয়েছি যা দিয়ে পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সমপরিমাণ টাকার যে কোনো পণ্য ক্রয়ের সুযোগ ছিলো। আর লেন্সটি ফেরত দিয়ে ক্যাশ টাকা বিকাশে ফেরত নিয়েছি।

    পণ্য ফেরত দেয়ার পর আপনার টাকা সঠিকভাবে ফেরত পেয়েছিলেন নাকি কিছু ক্ষতি হয়েছিলো?
    -- কোনো ক্ষতি হয়নি। ৮০০ টাকার ইলেকট্রিক শেভার ফেরত দিয়ে ১৬০ টাকা ক্যুরিয়ার খরচসহ মোট ৯৬০ টাকার ভাউচার কুপন পেয়েছিলাম। লেন্সের ২০০০ টাকার সাথে ক্যুরিয়ার খরচ ১৬০ টাকা এবং বিকাশ একাউন্টের ক্যাশআউট চার্জ ৪০ টাকা সহ মোট ২২০০ টাকা ফেরত পেয়েছিলাম।

    দারাজ অনলাইন শপিং এর বিক্রয়কালীন এবং বিক্রয়ত্তোর সেবা কেমন?
    -- সেবার মানের জন্যই daraz পছন্দ করি। যে কোনো বিষয়ে অভিযোগ অথবা প্রশ্ন করলে দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়। এছাড়া পণ্যের ডেলিভারীও খুব দ্রুত। যে কোনো পণ্যের ওয়ারেন্টি থাকলে তার সেবার দায়িত্ব বহন করে। পণ্যের কোনো সমস্যা হলে বা রিটার্ন গেলে পরিবহন খরচ সম্পূর্ণরূপে বহন করে।

    বাজার দরের তুলনায় daraz এ পণ্যের মূল্য কেমন? সামঞ্জস্যপূর্ণ?
    -- কিছু পণ্যের মূল্য বাজার দরের চেয়ে বেশি এবং কিছু পণ্যের মূল্য বাজার দরের চেয়ে কম। তবে মাঝেমধ্যেই সাশ্রয়ী অফার থাকে দারাজে। কিছুদিন আগে আমার কাজিন সুমনেকে একটি পাওয়ার ব্যাংক কিনে দেই daraz থেকে যার বাজার মূল্য ছিলো ৯০০ টাকা। অথচ দারাজ থেকে কিনলাম ৬৫০ টাকায়!



    আলিবাবা গ্রুপ ২০০৯ সাল থেকে ১১ নভেম্বর অনলাইনে বার্ষিক কেনাকাটার উৎসব ইলেভেন ইলেভেন চালু করে। চীনের অনেক তরুণ-তরুণী এদিনটিকে ‘সিঙ্গেল ডে’ হিসেবে পালন করে থাকে।

    আলিবাবা গ্রুপ দারাজ ডট কম কিনে নেয়ার পর প্রতি বছরই বাংলাদেশে এগারো এগারো উৎসব আয়োজন করা হয়। এদিন অর্থাৎ ১১ই নভেম্বর চমকপ্রদ সব অফার নিয়ে আসে দারাজ। বিভিন্ন পণ্যে দেয়া হয় বিশেষ ছাড়! সবচেয়ে আকর্ষণীয় অফার হলো ১১ টাকায় পণ্য কেনার সুযোগ। তবে গ্রাহকদের আগ্রহের কারণে এই অনলাইন কেনাকাটার উৎসব অনেক সময় বর্ধিত করে দারাজ ডটকম

    জানা যায় ইলেভেন ইলেভেন সেল ডে তে আলিবাবা গ্রুপের বিক্রয় রেকর্ড ৩০.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

    তবে প্রশংসার পাশাপাশি দারাজের বিরুদ্ধে গ্রহকদের অভিযোগেরও শেষ নেই। এজন্য  যে কোনো ইকমার্স সাইট থেকে কেনাকাটার সময়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

    অনলাইন শপিং কি, অনলাইন শপিং বিডি ঢাকা, সবচেয়ে  বড় অনলাইন শপিং মল ইত্যাদি সম্পর্কে আপনাদের যে কোনো ভালো মন্দ অভিজ্ঞতা বা প্রশ্ন আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন এখানে কমেন্ট করে।


     Daraz online shopping, অনলাইন শপিং, অনলাইনে কেনাকাটা।

    Sunday, 27 September 2020

    September 27, 2020

    গুগল এডসেন্স কি? গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়

    গুগল এডসেন্স কি? গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়

    যারা টুক টাক ব্লগিং করেন বা করার চেষ্টা করেছেন তাদের সবাই গুগল এডসেন্সের কথা শুনেছেন।ইউটিউব চ্যানেল, ব্লগ, অ্যাপস  বা একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে AdSense থেকে আয় করা যায় তাও জানেন। অনেকেই, যাদের ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগ আছে তারা নিজেও একটা এডসেন্স একাউন্ট পাওয়ার আশা করেন।

    আমি এখানে ইউটিউব চ্যানেলে এডসেন্স সম্পর্কে আলোচনা করবোনা, বলবো ব্লগে গুগল এডসেন্স সম্পর্কে। নেটে গুগল এডসেন্স লিখে সার্চ করলেই দেখতে পাবেন হরেক রকমের তথ্য! কেউবা বলেন এটি পাওয়াই প্রায় অসম্ভব ব্যাপার আবার কেউবা বলেন পেলেও রক্ষা করা কঠিন আবার অনেকেই পরামর্শ দেন এর বিকল্প খোঁজার! আবার অনেকেই হতাশ হয়ে Google AdSense এর নাম দিয়েছেন সোনার হরিণ!আমাদের দেশে সরকারি চাকুরীকে যেমন সোনার হরিণ বলা হয় আরকি!


    সত্যি কথা বলতে কি আমার নিজেরও প্রথমে এরকমই ধারণা ছিলো নেট থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে। আমি নিজেও অনেক বিকল্প খুঁজেছি! এমনকি আমাজনের CPM এড পর্যন্ত ব্যাবহার করেছি যদিও এটি পাওয়াও গুগল এডসেন্স পাওয়ার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়! আমাজন এফিলিয়েট মারকেটিং ভিন্ন বিষয় তাই এটি নিয়ে এখানে আলোচনা করবোনা।

    এছাড়াও আরো কতো যে এড নেটওয়ার্কে চেষ্টা করেছি তার সবগুলোর নামই স্মরণ নেই! অনেক ভালো মন্দ Ad Network এ চেষ্টা করেছি! শেষ পর্যন্ত দেখা যায় একেকটার একেক রকমের কঠিন শর্ত! বিভিন্ন ফোরামেও এদের রিভিউ পড়েছি! শেষ পর্যন্ত ঘুরে ফিরে সবাই স্বীকার করে Google AdSense ই সবদিক থেকে সুবিধাজনক এবং ভালো ও বিশ্বস্ত!

    এখন অনেকেই হয়তো বলবেন ভালো সে তো আমরাও শুনেছি । ভালো বলেই তো ওয়েবসাইটের জন্য সবার আগে গুগল এডসেন্সই চাই! না পেয়েই তো এদিক সেদিক চেষ্টা করি। তাই পারলে নতুন কিছু শোনান যাতে সহজে গুগল এডসেন্স একাউন্ট পাওয়া যায়। এসব শুনতে শুনতে ক্লান্ত এবং হতাশ!

    উত্তরঃ জ্বী ভাই আপনার কথা মানছি। লেখাটি সম্পূর্ণ পড়লে অবশ্যই নতুন কিছু পাবেন যা সচরাচর কেউ বলেনা। তবে আগেই বলে নিই যদিও আমার এই ব্লগে আপনারা নিজেই গুগল এডসেন্স দেখতে পাচ্ছেন তবুও আমি কোনো বিশেষজ্ঞ নই বরং নিজেই এখনো শিখছি। তবে এটুকু বলা যায় গুগল এডসেন্স সফলভাবে চালাতে হলে এ বিষয়ে গুগলের সকল নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরন করতে হবে। কাজেই বিভ্রান্ত হতে না চাইলে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকেই সঠিক তথ্য জানতে হবে।

    তাহলে Google AdSense সম্পর্কে সঠিক তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?



    উত্তরঃ
    আসলে গুগল এডসেন্স হেল্প বা সাপোর্ট সেন্টারে এডসেন্স সম্পর্কে সব তথ্যই আছে। সরাসরি সেখান থেকে জানলে সম্পূর্ণ সঠিক তথ্যটি পাওয়া যায়। তবে সবগুলো লেখা পড়তে অনেক সময়ের প্রয়োজন। আর সব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর অবশ্য পাওয়া যায়না। এমন অনেক প্রশ্নই মনে আসে যার উত্তর সরাসরি সেখানে নেই। যেসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই সেসব বিষয়ে আপনি AdSense help ফোরামে যখন খুশি, যতো খুশি প্রশ্ন করতে পারেন। খুব দ্রুত কোনো এক্সপার্ট এসে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবে।

    আমাদের ব্লগে কোনো অনুমাননির্ভর তথ্য দেয়া হয়না বরং আমাদের ব্লগে এডসেন্স নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে পাঠকদের জন্য উপকারী বিষয়গুলো শেয়ার করা হয়েছে।

    এখন আসুন কিছু প্রশ্নোত্তরের আলোকে Google AdSense সম্পর্কে জানা যাক।

    গুগল এডসেন্স কি? গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়


    প্রশ্ন: গুগল এডসেন্স কি? কিভাবে এডসেন্স থেকে আয় করা যায়? 
     

    উত্তর:
    গুগল এডসেন্স হলো গুগলের এড নেটওয়ার্ক প্রোগ্রাম। Google Ads যার পূর্বনাম Google Adwords এর মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে যেসব বিজ্ঞাপন ( Display Ads) পায় তা AdSense এর মাধ্যমে পাবলিশারদের দিয়ে থাকে। Publisher গণ তাদের ওয়েবসাইটে উক্ত বিজ্ঞাপণগুলো প্রচার করলে এ থেকে গুগলের যা আয় হয় তার ৬৮% তারা পাবলিশারদের দিয়ে থাকে। ওয়েবসাইট ছাড়াও বিজ্ঞাপনগুলী ইউটিউব চ্যানেল এবং মোবাইল এপসেও প্রদর্শন করা যায় তবে এজন্য ভিন্ন ভিন্ন শর্ত এবং নিয়মাবলী প্রযোজ্য। উল্লেখ্য এটি গুগলের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস।


    প্রশ্ন: ব্লগার ব্লগে বাংলা কনটেন্টে কি AdSense পাওয়া যায়?

    উত্তর: জ্বী যায়। আমি নিজেই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ! আর এই লেখার মূল আলোচনা এ বিষয়টি কেন্দ্র করেই। ব্লগার ব্লগে অর্থাৎ blogspot subdomain ব্লগেও খুব সহজেই এডসেন্স পাওয়া যায়। একে বলে হোস্টেড এডসেন্স (Hosted AdSense)। এমন বাধ্যবাধকতা নেই যে আগে কোনো টপ লেভেল ডোমেইন(.com .net .org .info) নিয়েই শুরু করতে হবে অথবা ডোমেইন হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেসেই  শুরু করতে হবে।

    আমি প্রথমে এই ব্লগেই এডসেন্সের জন্য এপ্লিকেশন করেছি আর এপ্রুভও হয়েছে। সমকাল ব্লগ তখন ছিলো Blogger subdomain এ। পরবর্তীতে Custom domain সেট করা হয় এবং AdSense Account টি হোস্টেড এডসেন্স (Hosted AdSense) থেকে আপগ্রেড করে নন-হোস্টেড এডসেন্স (Non Hosted AdSense) করা হয়।

    আর বাংলা লেখায় গুগল এড দেয় এটা এখন পুরনো খবর। গত ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে গুগল এডসেন্স বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটে এড দেয়া শুরু করেছে। আরও পড়ুন  ব্লগার ব্লগে এডসেন্স বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সহজ পদ্ধতি।

    প্রশ্ন: কিভাবে এডসেন্স একাউন্ট পাওয়ার জন্য এপ্লিকেশন করতে হয়?


    উত্তর:
    গুগল এডসেন্স একাউন্টের জন্য আবেদন করার আগে অবশ্যই আগে যাচাই করে নিতে হবে আপনার ওয়েবসাইটটি এডসেন্স পাওয়ার জন্য Eligible কিনা। যদি নিশ্চিত হন আপনার ওয়েবসাইটি গুগল এডসেন্সের Program policy এবং Terms and Conditions সম্পূূূর্ণরূপে অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে তবেই নির্দিষ্ট Form টি পূরন করে sign up করুন।

    তবে যদি ব্লগার ব্লগে blogspot subdomain থেকে হোস্টেড (Hosted) একাউন্টের জন্য আবেদন করতে চান তাহলে এই ফরমের মাধ্যমে আবেদন করা যাবেনা। সেক্ষেত্রে আপনার ব্লগার ব্লগ থেকেই আবেদন করতে হবে।

    প্রশ্ন: গুগল এডসেন্স  এর  জন্য এপ্লিকেশন করার আগে ব্লগের বয়স কতোদিন হতে হবে? 

    উত্তর: এইটা নিয়েই অনেকে বিভ্রান্তি ছড়ায়! কেউ বলে ব্লগের বয়স কমপক্ষে ছয়মাস হতে হবে আবার কেউ বলে ছয়মাস হওয়ার প্রয়োজন নেই! ভালো লেখা হলে তিন চার মাসেই এডসেন্স পাওয়া যায়! তাহলে কার কথা বিশ্বাস করবেন? এক্ষেত্রে আমি বলবো আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথা! আমি প্রথমে আমার এই ব্লগের বয়স ছয়মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এডসেন্স এপ্লিকেশন করেছিলাম! গুগল এপ্লিকেশন রিজেক্ট করে ইমেইল করেছিলো। সেখানে এপ্লিকেশন রিজেক্ট হওয়ার যে কারণ উল্লেখ ছিলো তার একটিতে স্পষ্ট বলা ছিলো যে ব্লগের বয়স কমপক্ষে ছয়মাস হতে হবে এডসেন্স পেতে হলে। দেখুন গুগল নিজেই কি বলে এ বিষয়ে:

    Has your site been active for at least six months?

    In some locations, we may require your site to have been active for at least six months before it will be considered. We've taken this step to ensure the quality of our advertising network and protect the interests of our advertisers and existing publishers.

    প্রশ্ন: গুগল এডসেন্স  একাউন্ট এর জন্য এপ্লিকেশন করার আগে ব্লগে মোট কতটি পোস্ট থাকতে হবে? 
    
    উত্তর: এটি নিয়েও চরম বিভ্রান্তি দেখতে পাবেন গুগলে সার্চ করলে! কেউ বলে ২৫/৩০ কেউ বলে ৫০+ আবার কেউবা বলে ১০০+! এক্ষেত্রেও আমি শুধু নিজের অভিজ্ঞতাই বলবো। আমার এই ব্লগটি এপ্রুভ হওয়ার সময় পোস্ট ছিলো মাত্র ১৮ টি! অবশ্য এর চেয়েও কম পোস্টে কেউ পেয়ে থাকলে আমার জানা নেই। কাজেই নতুনদের ঘাবড়ানোর কারণ নেই! ২০+ পোস্ট লেখার পরই এপ্লাই করতে থাকুন। এপ্রুভ না হলে বারবার এপ্লাই করলেও কোনো সমস্যা নেই। তবে পোস্টগুলো যেনো অবশ্যই ইউনিক হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ কপি পেষ্ট লেখা চলবেনা।

    প্রশ্ন: লেখার আকার কমপক্ষে কতো শব্দের হতে হবে? 

    উত্তর: কেউ বলে ৫০০ আবার কেউ বলে ১০০০ শব্দের হতে হবে! আমার ১৮ টি পোস্টের বেশ কয়েকটি লেখাই ছিলো মাত্র ৪/৫ লাইনের! তারপরও এপ্রুভ হয়েছে। তবে লেখার মান যত ভালো হবে , লেখা যতো তথ্যবহুল হবে, লেখার আকার যতো বড় হবে ততো তাড়াতাড়ি এপ্রুভ হবে। কিন্তু লেখার আকার বড় করতে গিয়ে অর্থহীন বাক্য দিয়ে Content ভরিয়ে ফেলা ঠিক হবেনা।

    প্রশ্ন: লেখার মান কেমন হতে হবে? কপি পেস্ট করা যাবে?

    উত্তর: কপি পেস্ট যে করা যাবেনা সেটা গুগল স্পস্টই বলে দিয়েছে! আমিও কপি পেস্ট করিনি। যা লেখা হয়েছে সব নিজ থেকেই লেখা। তবে তারমানে এই নয় যে নেট থেকে কোনো তথ্য নেয়া যাবেনা। প্রয়োজনীয় তথ্য নেট থেকে সংগ্রহ করে নিজের ভাষায় লেখা যাবে।

    প্রশ্ন: শুধু একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়েই লিখতে হবে? নাকি একাধিক বিষয় নিয়েও ব্লগে লেখা যাবে?

    উত্তর: আমার ব্লগে দেখতেই পাচ্ছেন একাধিক বিষয়ে লেখা হয়েছে। অবশ্যই একাধিক টপিকস এবং Keywords এর উপরে লেখা যাবে। তবে কিছু বিষয় আছে যেগুলো কোনভাবেই ওয়েবসাইটে লেখা যাবেনা, লিখলে AdSense এপ্রুুভ হবেনা। এগুলো prohibited content।

    প্রশ্ন: কোন টেমপ্লেটটি ব্যাবহার করলে ভালো হবে?

    উত্তর: এখন আমার ব্লগে যে Template টি দেখতে পাচ্ছেন এটি এডসেন্স পাওয়ার অনেক পরে নিয়েছি। শুরুতে এপ্লিকেশন এপ্রুভ হওয়ার সময় ছিলো ব্লগারের Simple template। কাজেই নিজের পছন্দমত যেকোনো টেমপ্লেট ব্যবহার করা যাবে। এতে কোনো বিধিনিষেধ নেই তবে ওয়েবসাইটের Navigation যেনো User-friendly হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    প্রশ্ন: ব্লগে Privacy policy, Contact, About ইত্যাদি দেয়া কি জরুরি?

    উত্তর : গুগল এগুলো স্পষ্টভাবেই ব্যাবহার করতে বলেছে। তবে এপ্লিকেশন করার সময় আমার ব্লগে এগুলো ছিলোনা। এপ্রুভ হওয়ার পরে এসব রেখেছি। তবে ওয়েবসাইটে বিশেষ করে Privacy policy অবশ্যই রাখতে হবে। এ বিষয়ে Google বলেছে :

    Privacy

    You must disclose clearly any data collection, sharing, and usage that takes place on any site, app, or other property as a consequence of your use of any Google advertising service. To comply with this disclosure obligation with respect to Google’s use of data, you have the option to display a prominent link to How Google uses data when you use our partners’ sites or apps

    এডসেন্স এড্রেস ভেরিফিকেশন: মনে রাখতে হবে এড্রেস ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক। এডসেন্স একাউন্টে দেয়া এড্রেস ভেরিফিকেশন করার আগে পেমেন্টের জন্য ব্যাংক একাউন্ট নম্বর এড করা যায়না। এডসেন্স একাউন্টে প্রথম ১০ ডলার জমা হওয়ার সাথে সাথেই এডসেন্স পাবলিশারের এড্রেস ভেরিফিকেশনের জন্য একটি পিন নম্বর জেনারেট করা হয়। এরপর পিন নম্বরটি বাই পোস্টে পাবলিশারের দেয়া ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয় গুগল। চিঠি পাওয়ার পর নির্দিষ্ট নিয়মে পিন নম্বরটি বসিয়ে নিজের ঠিকানা ভেরিফাই করতে হয় এডসেন্স পাবলিশারকে। প্রথমবার কোনো কারণে চিঠি না পেলেও ভয়ের কিছু নেই। সর্বোচ্চ তিনবার চিঠি পাঠানো হয়। এরপরও না পৌঁছালে তবুও ঘাবড়ানোর কিছু নেই।সেক্ষেত্রে নিজের ভোটার আইডি কার্ডের স্ক্যান কপি অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি দিয়েও এড্রেস ভেরিফিকেশন করা যায়।

    শেষ করার আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস:গুগল এডসেন্স পেতে চাইলে ব্লগে কখনও ভায়োলেন্স প্রকাশ পায় এমন কোনো ছবি রাখা যাবেনা এবং কোনো ড্রাগস নিয়ে আলোচনা করা যাবেনা। এমনকি এমন কোনো মুভি পিকচারও রাখা যাবেনা যেখানে অস্ত্র বা বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্য রয়েছে! আমার ব্লগে জেমস বন্ড মুভির একটি দৃশ্যের ছবি ছিলো যেখানে নায়ক অস্ত্র হাতে দৌড়াচ্ছে। এপ্রুভ করার আগে এজন্য গুগল আমাকে সতর্ক করে ইমেইল করেছিলো। এরপর ছবিটি ডিলিট করার পরেই  AdSense এপ্রুভ করেছিলো গুগল! 


    এখানে স্বল্প পরিসরে কমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলাম। প্রশ্নগুলো আমার নিজের মনেও উদয় হয়েছিলো।প্রশ্নোত্তরগুলোর উত্তর ভালোভাবে ফলো করলে খুব তাড়াতাড়ি এবং সহজেই পাওয়া যাবে স্বপ্নের Google AdSense। গুগল এডসেন্স তাদের Program policy এবং Terms and conditions এর বিষয়ে খুবই সিরিয়াস। কাজেই এডসেন্স একাউন্ট পাওয়ার জন্য এবং তা টিকিয়ে রাখার জন্য এগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করে চলার কোনো বিকল্প নেই।

    কাদের জন্য এডসেন্স উপযুক্ত নয়?

    • যারা ওয়েবসাইট নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করার আগেই দ্রুত টাকা রোজগার করতে চায়।
    • যাদের ধৈর্য্যের অভাব আছে ।
    • লেখালেখির প্রতি আগ্রহ কম। অন্যের লেখা কপি করার প্রবনতা আছে।
    • ওয়েবসাইট শুধু ফেসবুক ভিজিটরের উপর নির্ভরশীল।
    • SEO এর মাধ্যমে Organic visitor আনার পরিকল্পনা নেই।
    • মনে করে একটি AdSense account পেয়ে গেলেই হাজার হাজার ডলার আসতে থাকবে।
    • প্রচুর পড়াশোনা করার আগ্রহ ও ধৈর্য্য নেই।

    একেকজনের একেকরকম প্রশ্ন থাকবেই। প্রশ্নের আসলে কোনো শেষ নেই।এডসেন্স নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। উত্তর জানা থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা দিয়ে দেয়া হবে। আরো নতুন নতুন পোস্ট পেতে নিয়মিত ব্লগে চোখ রাখুন।

    Sunday, 20 September 2020

    September 20, 2020

    ব্লগারে ফ্রি ব্লগ সাইট তৈরি বা ব্লগ তৈরি করার নিয়ম

    ব্লগারে ফ্রি ব্লগ সাইট তৈরি করার নিয়ম


    ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরির অনেকগুলো প্ল্যাটফর্ম আছে। এর মধ্যে ব্যাক্তিগতভাবে আমার কাছে ব্লগার বা ব্লগস্পট সবচেয়ে পছন্দের। ব্লগারে নতুন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা জিমেইল বা ফেসবুক একাউন্ট তৈরির মতোই একেবারে সহজ! ব্লগার গুগলেরই একটি প্রোডাক্ট যেমন জিমেইল গুগলের প্রোডাক্ট।

    স্মার্টফোন যারা ব্যবহার করেন তাদের প্রত্যেকের নিশ্চয়ই একটি জিমেইল একাউন্ট আছে কারণ জিমেইল ছাড়া গুগল প্লে স্টোর থেকে কোনো অ্যাপস ডাউনলোড করা যায়না। গুগল প্লে স্টোরও গুগলেরই সার্ভিস। মোট কথা জিমেইল ছাড়া গুগলের কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যায়না আবার একটি জিমেইল একাউন্ট হলেই গুগলের সব প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যায়! এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন ব্লগারে একটি ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে অবশ্যই একটি জিমেইল একাউন্ট দরকার হবে। কাজেই যদি এখনও আপনার কোনো জিমেইল একাউন্ট না থাকে তাহলে Gmail sign up করে নতুন একাউন্ট তৈরি করে নিন।

    এখন প্রশ্ন হলো কেন আপনার একটি ফ্রী ওয়েবসাইট প্রয়োজন? নিছক খেলাচ্ছলে নাকি সত্যিই প্রয়োজন? এটি কিন্তু মোটেও খেলার জিনিস নয়! এর মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যায়। আবার অপ্রয়োজনে এদিকে মনোনিবেশ করলে প্রচুর সময় নস্ট হওয়ার আশংকাও আছে। এজন্য নতুন একটি ফ্রী ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরির আগে আসুন কিছু নেগেটিভ, পজেটিভ বিষয়ে আলোচনা করা যাক!

    আপনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এমন কিছু প্রচার করতে চান যা ফেসবুকের সীমিত পরিসরে সম্ভব হচ্ছেনা? সেক্ষেত্রে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে ফেসবুক বা অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়ায় কিছু প্রচার করলে তা অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার বেশকিছু পরিচিত, অপরিচিত লোকের কাছে পৌঁছে যাবে কারণ ফেসবুক বা অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়ায় নিশ্চয়ই আপনার বেশকিছু ফ্রেন্ড বা ফলোয়ার আছে। কিন্তু ব্লগারে একটি নতুন ওয়েবসাইট ওপেন করে কিছু লিখলেই তা কোনো পাঠকের কাছে পৌঁছাবেনা।

    একটি ওয়েবসাইটে কিছু লিখলেই কাজ শেষ হয়ে যায়না। ওয়েবসাইটে লেখা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়। সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো ওয়েবসাইটে পাঠক বা ভিজিটর নিয়ে আসা! অনেকেই হয়তো ভাবছেন ওয়েবসাইটে লিখে ফেসবুকে লিংক শেয়ার করলেই প্রচুর ভিজিটর পাওয়া যাবে কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা! ভিজিটরের জন্য শুধু ফেসবুকের উপর নির্ভরশীল হতে চাইলে এদিকে না আসাই ভালো কারণ এতে শুধু শুধু কিছু সময় নষ্ট হবে এবং অবশেষে হতাশ হয়ে ব্যার্থ হয়ে ফিরে যেতে হবে! এমন অসংখ্য ওয়েবসাইট দেখা যায় যার মালিকরা হতাশ হয়ে পোস্ট আপডেট করা ছেড়ে দিয়েছেন!

    ভিজিটর বা পাঠকই হলো একটি ওয়েবসাইটের প্রাণ! কারণ আপনি যা লিখবেন নিশ্চয়ই চাইবেন তা পাঠক পড়ুক। পাঠক ছাড়া লিখে লাভ কি? তবে যারা সত্যিই সিরিয়াস তাদের জন্য হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আপনার লেখা যদি ভালো মানের হয় এবং পাঠকের জন্য উপকারী হয় তাহলে আপনার লেখাকে পাঠকের কাছে পৌঁছানোর প্রযুক্তি অবশ্যই আছে যাকে বলে এসইও (SEO) সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।

    তবে সফলভাবে যদি একটি ওয়েবসাইট চালাতে চান তাহলে পূর্বশর্ত হলো অবশ্যই এমন কিছু লিখতে হবে যা পাঠক নিজ আগ্রহেই পড়তে চান এবং গুগলে সেই বিষয়ে সার্চ করেন। ভালো কন্টেন্ট প্রকাশের পরই গুরুত্বপূর্ণ হলো Search Engine Optimization। এই SEO এমন এক প্রযুক্তি বা প্রক্রিয়া যা আয়ত্ত করতে দীর্ঘসময় ধরে রীতিমতো সাধনার প্রয়োজন!

    মূলকথা সফলভাবে একটি ওয়েবসাইট চালাতে হলে এটিকে passion বা আসক্তি হিসেবে নিতে হবে এবং কঠিন প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্ন হলো এতো কষ্ট করে লাভ কি? শুধু শুধু নিজের লেখাকে অন্যের কাছে পৌঁছানোর জন্য এতো কষ্ট কেন করবে মানুষ?

    এর উত্তর হলো একটি ওয়েবসাইটের অর্গানিক ভিজিটর = টাকা!

    হ্যাঁ সত্যিই একটি ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত কোয়ালিটি ভিজিটর আনতে পারলে আপনি চাইলে ভিজিটরকে টাকায় পরিণত করতে পারবেন! আর এজন্যই এতো প্রতিযোগিতা!

    উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা পড়ার পর এখনও যদি আপনার আগ্রহ থাকে তাহলে আপনার জন্য সুখবর হলো আমাদের সমকাল ব্লগে একটি ফ্রী ব্লগার ব্লগ তৈরি, এবং ব্লগ থেকে এডসেন্স এর মাধ্যমে কিভাবে পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন করা যায় তার বিস্তারিত বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হয়েছে। অর্থ উপার্জনের জন্য শুধুমাত্র পরীক্ষিত বিষয়গুলোই আলোচনা করা হবে। অনলাইনে আয়, বিকাশে পেমেন্ট জাতীয় ভুয়া বিষয়গুলো আমরা সবসময় এড়িয়ে চলি।

    তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক ব্লগার এ একটি নতুন ব্লগ তৈরি করার নিয়মঃ 



    এজন্য প্রথমেই ব্লগার ওয়েবসাইটে জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করতে হবে। সাইন ইন করার পর উপরের দিকে বাম পার্শ্বে New blog এ ক্লিক করতে হবে। নিচের স্ক্রিনশটের মতো একটি পপ আপ ওপেন হবে। Title এর ঘরে ব্লগের জন্য একটি শিরোনাম দিতে হবে Address এর ঘরে যে নামে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান সেই নামটি দিতে হবে। ওয়েবসাইটের নাম দেয়ার সাথে সাথেই checking availability শুরু হয়ে যাবে অর্থাৎ ঐ নামে আগে থেকেই কারও ওয়েবসাইট আছে কিনা চেক করে দেখবে। যদি আগে থেকেই ঐ নামে কারও ব্লগ থেকে থাকে তাহলে সরি দেখাবে। তখন নাম পরিবর্তন করে দেখতে হবে। যদি আপনার দেয়া নামে ইতোপূর্বে কোনো ওয়েবসাইট না থেকে থাকে তাহলে available দেখাবে। সেক্ষেত্রে Theme অপশন থেকে ব্লগের জন্য একটি থিম নির্বাচন করে নিচের create বাটনে ক্লিক করলেই একটি নতুন ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি হয়ে যাবে!

    ব্লগ তৈরি করার নিয়ম



    এখানে উল্লেখ্য যে ব্লগের Title, Address, Theme সবই যে কোনো সময় পরিবর্তনযোগ্য তাই এ নিয়ে মিছেমিছি ঘাবড়ানোর কিছু নেই!

    আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার সেটি হলো ফ্রী ওয়েবসাইটটি একটি ব্লগার সাবডোমেইন হবে এটি প্রধান ডোমেইন হবেনা অর্থাৎ আপনি যে নামেই ওয়েবসাইট তৈরি করুন না কেন তার শেষে .blogspot.com থাকবে। উদাহরণস্বরূপ www.blogname.blogspot.com এরকম হবে। www.blogname.com এরকম প্রধান ডোমেইন নিতে চাইলে custom domain কিনে তা ব্লগারে সংযুক্ত করতে হবে।

    ওয়েবসাইট তৈরি হলো এবার জানুন ব্লগ লেখার নিয়ম



    ওয়েবসাইটটিকে সফলভাবে চালানোর জন্য যে বিষয়গুলো বেশি জরুরী সে বিষয়গুলোই আগে আলোচনা করা এবং আয়ত্ত করা জরুরী। ওয়েবসাইটে কোনো লেখা পোস্ট করার জন্য ব্লগারে সাইন ইন অবস্থায় New post বাটনে ক্লিক করতে হবে।

    ক্লিক করার পর লেখার জন্য একটি ড্যাশবোর্ড ওপেন হবে। যাদের কম্পিউটারে টাইপিং করার এম এস ওয়ার্ড টুল সম্পর্কে ন্যুনতম ধারণা আছে তারা ড্যাশবোর্ডটি দেখলেই বুঝতে পারবেন এতে একটি লেখাকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য যা যা প্রয়োজন তার সব ধরনের টুলসই রয়েছে!

    ড্যাশবোর্ডের উপরের দিকে Post title এর জায়গায় লেখাটির শিরোনাম দিতে হবে। বক্সের ভেতরে মূল লেখাটি পোস্ট করতে হবে। লেখার যে কোনো লাইন বোল্ড, ইটালিক, আন্ডারলাইন করার অপশন রয়েছে। ফন্ট, টেক্সট সাইজ ইত্যাদি সবকিছুই কাস্টমাইজ করা যায় খুব সহজেই।

    এছাড়াও জাস্টিফাই, নাম্বার, বুলেট, কোটেশন, টেক্সট কালার, ব্যাকগ্রাউন্ড কালার সবকিছুই রয়েছে। যে কোনো ছবি বা ভিডিও আপলোড করার অপশন এবং লিংক দেয়ার অপশন তো রয়েছেই! একটু ঘাটাঘাটি করলে যে কেউ খুব সহজেই বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে পারবে। টুলসগুলো ব্যবহার করে লেখাটিকে সুন্দরভাবে সাজানোর পরে উপরে Publish বাটনে ক্লিক করলেই লেখাটি পাবলিশ হয়ে যাবে। এবার View ব্লগে ক্লিক করলেই আলাদা ট্যাবে নতুন ব্লগ পোস্টটি ওপেন হয়ে যাবে।

    লেআউট পরিচিতি



    পোস্ট লেখা শেখার পরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো লেআউট ডিজাইন। লেআউটের মাধ্যমেই আপনার ওয়েবসাইটটিকে নিজের প্রয়োজন এবং পছন্দমাফিক সাজিয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ ব্লগের কোন অংশে কি দেখানো হবে, কোথায় পোস্ট বডি থাকবে, কোথায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানো হবে, সাইড বার, হেডার, ফুটারে কি থাকবে ইত্যাদি লেআউটের মাধ্যমেই নির্ধারন করতে হবে।

    লেআউটের + Add a Gadget অপশনে ক্লিক করলে ঐ স্থানে বসানোর উপযোগী বেশকিছু Gadget প্রদর্শিত হবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় Gadget টি সিলেক্ট করা যাবে, Gadget টির ডানপাশের (+) বাটনে ক্লিক করে। তালিকার প্রথম Gadget টি হলো AdSense। এটি শুধুমাত্র এডসেন্স এপ্রুভড ব্লগের জন্য। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে গুগল এডসেন্স বাংলা পোস্টে। মনে রাখতে হবে লেআউটের ইন্টারফেস নির্ভর করে ব্লগের থিমের উপর। ভিন্ন ভিন্ন থিমের জন্য লেআউটের ইন্টারফেস ভিন্ন ভিন্ন হবে।

    থিম 


    ড্যাশবোর্ডে লেআউটের নিচেই রয়েছে Theme অপশন‌টি। এর মাধ্যমে থিম অর্থাৎ টেমপ্লেটটি পরিবর্তন এবং টেম্পলেটটি Customize করে এতে ইচ্ছামত সংযোজন বিয়োজন করা যাবে। আবার মোবাইল ভার্সন Enable করার মাধ্যমে টেমপ্লেটটি মোবাইল রেসপন্সিভ করা যাবে।

    নতুন পেজ তৈরি


    লেআউটের উপরেই রয়েছে Pages নামে একটি অপশন। এর মাধ্যমে ব্লগের জন্য About, Contact, Privacy ইত্যাদি নতুন পেজ তৈরি করা যাবে। পেজ তৈরির সিস্টেম অনেকটা নতুন পোস্ট তৈরির মতই।

    সেটিংস


    থিমের নিচেই রয়েছে Settings নামে একটি অপশন। তবে এটি না বুঝে কোনো পরিবর্তন না করাই ভালো। এটিতে কোনো পরিবর্তন করার আগে অবশ্যই ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। সেটিংসে ক্লিক করলে প্রথমেই আসবে Basic অপশন। এখানে ব্লগের Title, Description, Blog Address ইত্যাদি পরিবর্তন করা যাবে। Basic এর নিচেই রয়েছে Posts,Comments and Sharing। এখানে আপনার ওয়েবসাইটের Homepage এ কয়টি পোস্ট দেখানো হবে তা নির্ধারণ করে দেয়া যাবে। আবার কারা আপনার ওয়েবসাইটের পোস্টগুলোতে কমেন্ট করতে পারবে তাও এখানে নির্বাচন করে দেয়া যাবে।

    ব্লগের ভিজিটর পর্যবেক্ষণ



    একেবারে উপরের দিকে Stats নামে একটি অপশন রয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটের পাঠকদের পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কত সংখ্যক ভিজিটর ওয়েবসাইটে আসলো, কোন লেখাটি তারা পড়লো, কোন লিংকের মাধ্যমে, কোন দেশ থেকে আসলো এমনকি কোন ব্রাউজার এবং কোন অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ভিজিট করলো সব তথ্যই এখানে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করা যাবে!


    এই হলো ব্লগার ব্লগ চালানোর বেসিক ধারণা। এগুলো আয়ত্ত করতে পারলেই সুন্দরভাবে চালানো যাবে ফ্রী ব্লগার ব্লগ। তবে নিজে নিজে ঘাটাঘাটি করলে আরো অনেক কিছু জানা যাবে। পুরো বিষয়টি একটি ক্রিয়েটিভ বিষয়। কতক্ষণে একজন শিখিয়ে দেবে সেই আশায় থাকলে বেশিদূর অগ্রসর হওয়া যাবেনা। নিজে নিজে শেখার আগ্রহ যতো বেশি হবে সফলতার সম্ভাবনাও ততো বেশি হবে।
     
    লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কি তা আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। পাঠকের চাহিদা মাথায় রেখে আগামীতে আরও বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নতুন পোস্ট করা হবে। লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেননা।

    Saturday, 19 September 2020

    September 19, 2020

    ব্লগার ব্লগে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন বসানোর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি

    ব্লগার ব্লগে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন বসানোর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি


    যারা ব্লগার বা ব্লগস্পট এ একটি ওয়েবসাইট বানিয়েছেন এবং সদ্য গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পেয়েছেন তাদের জন্য এই পোস্ট এ আলোচনা করা হয়েছে ব্লগার ব্লগে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন বসানোর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি।

    এডসেন্স কি এবং কিভাবে সহজেই ব্লগে এডসেন্স পাওয়া যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি আগের পোস্টে। কাজেই যারা গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ শুরু করতে চাচ্ছেন তারা অবশ্যই প্রথমে লেখাটি ভালোভাবে পড়ে নেবেন।
    ইদানিং অনেককেই এডসেন্স একাউন্ট কেনাবেচা করতে দেখা যায় যা মোটেই উচিৎ নয়। গুগল এডসেন্স থেকে দীর্ঘমেয়াদী আয় করতে চাইলে নিজেই নিজের ব্লগে বা ওয়েবসাইটে এডসেন্স এপ্রুভ করানোর যোগ্যতা থাকতে হবে। অন্যের একাউন্ট কিনে ব্যবহার করলে পরবর্তীতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে এমনকি একাউন্ট চিরতরে ব্যান হয়েও যেতে পারে।



    এডসেন্স এখন বাংলা ভাষা সাপোর্ট করে অর্থাৎ বাংলা ভাষার একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেই আপনি এখন খুব সহজেই এডসেন্স পেতে পারেন। আপনাকে প্রথমেই ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন, হোস্টিং কিনতে টাকা ইনভেস্ট করতে হবেনা। ফ্রী ব্লগার ব্লগ দিয়েই যাত্রা শুরু করতে পারেন। এরপর নামমাত্র মূল্যে শুধু একটি কাস্টম ডোমেইন কিনলেই পেয়ে যাবেন সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট। পরবর্তীতে শুধু এডসেন্স একাউন্টটি হোস্টেড থেকে নন হোস্টেড এ আপগ্রেড করতে হবে। এমনকি যদি ব্লগারে তৈরি ওয়েবসাইটটিকে ওয়ার্ডপ্রেসে নিতে চান তাও পারবেন খুব সহজেই! এসব কিছুই এতো সহজ ভাষায় এবং বিস্তারিত আলোচনা করেছি যে একবার পড়লেই অন্যের কাছ থেকে একাউন্ট কেনার চিন্তা মাথা থেকে একদম দূর হয়ে যাবে।

    যারা ইতোমধ্যেই এডসেন্স একাউন্ট পেয়ে গেছেন এবং ব্লগে সঠিকভাবে এডসেন্স কোড বসাতে চাইছেন আজকের পোস্টটি তাদের জন্যই সবচেয়ে বেশি উপকারী হবে।

    যারা এডসেন্স একাউন্ট পেয়েছেন তারা সহজেই নিজেদের ওয়েবসাইটে এড প্রদর্শন করাতে পারবেন। তবে প্রথমবার বিজ্ঞাপন কোডগুলি বসানোর আগে কিছু কনফিউশন হতে পারে এবং কিছু প্রশ্নের অবতারণা হতে পারে। ভালভাবে জেনে বুঝেই ব্লগে এডসেন্স কোড বসাতে হবে। তা না হলে তাড়াহুড়া করতে গিয়ে গুগলের Ad placement policy বিরোধী কোনো কাজ করে ফেললে একাউন্ট ব্যান করে দেবে গুগল।

    আসুন কিছু প্রশ্নোত্তরের আলোকে ব্লগে এডসেন্স এড প্রদর্শনের বিস্তারিত বিষয়গুলো জেনে নেয়া যাক।

    একটি ব্লগ পোস্টে মোট কয়টি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানো যাবে?


    কয়েক বছর আগেও একটি ওয়েব পেজে গুগলের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সংখ্যার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ছিলো। কিন্তু সুখবর হলো বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের এ সীমাবদ্ধতা তুলে নিয়েছে গুগল। বর্তমানে একটি ওয়েবপেজে যতখুশি তত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যায়। গত ২০১৬ সালের আগস্টে এই সীমাবদ্ধতা তুলে নিয়েছে গুগল। কাজেই বিজ্ঞাপনের সংখ্যা নিয়ে আর ভয়ের কিছু নেই। বিজ্ঞাপনের সংখ্যার জন্য এডসেন্স একাউন্ট আর ব্যান হবে না। তবে এরপরও কথা থেকে যায়।
    • এডসেন্স Ad placement policy অনুযায়ী কোনো ব্লাঙ্ক পেজে অর্থাৎ কনটেন্ট শুন্য পেজে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যাবেনা।
    • কোনো পেজে কনটেন্ট অর্থাৎ লেখার চেয়ে বিজ্ঞাপনের পরিমাণ বেশি হওয়া যাবেনা।

    এডসেন্সের পাশাপাশি একই ওয়েবসাইটে অন্য এডনেটওয়ার্কের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যাবে?


    অবশ্যই করা যাবে। অনেকেই ওয়েবসাইটে শুধু গুগলের বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরশীল না হয়ে পাশাপাশি অন্য এডনেটওয়ার্কের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে এবং এটি এডসেন্স অনুমোদন করে। তবে pop-up, pop-under বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যাবেনা। আবার adf.ly এর মতো link shortening বিজ্ঞাপনও ব্যবহার করা যাবেনা।

    এবার চলুন দেখা যাক কিভাবে এডসেন্স একাউন্ট থেকে বিজ্ঞাপনের কোডগুলি ব্লগার ব্লগে ব্যবহার করতে হয়।

    প্রথমে গুগল এডসেন্স একাউন্টে লগইন করে বামপাশের পপ আপ বাটনে ক্লিক করে My ads>Ad units এ ক্লিক করতে হবে। এরপর + New ad unit এ ক্লিক করলে তিন ধরনের ad unit থেকে যে কোনো একটি সিলেক্ট করার অপশন আসবে।
    • Text /Display ads
    • In article ads
    • In feed ads

    ব্লগার ব্লগে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সহজ পদ্ধতি

    এদের মধ্যে In feed ads ভিন্ন ধরনের এড। এটি নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

    Header Gadget, Sidebar অথবা Footer Widget এ ব্যবহার করার জন্য Text/Display ads সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। এজন্য Text/Display ads সিলেক্ট করে নিজের পছন্দমাফিক Size, Color, Style ইত্যাদি কাস্টমাইজ করে একটি নতুন Ad unit তৈরি করতে হবে। এরপর নিচের Save and get code বাটনে ক্লিক করে HTML কোডটি কপি করতে হবে।

    এখন ব্লগার একাউন্টে গিয়ে নির্দিষ্ট ব্লগটির লেআউট অপশন থেকে যেখানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে চান সেখানে Add a gadget অপশনে ক্লিক করে HTML/JavaScript সিলেক্ট করতে হবে। এরপর আগেই কপি করা এডসেন্স কোডটি সেখানে পেস্ট করে সেভ করতে হবে। সবশেষে উপরের দিকে Orange কালারের Save Arrangement বাটনে ক্লিক করলেই কাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন কোডটি ব্লগের নির্দিষ্ট জায়গায় সেভ হয়ে যাবে। এখন ব্লগটি View করলে নির্দিষ্ট জায়গায় বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শিত হতে থাকবে।

    ব্লগার ব্লগে আরেকটি পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যায়। এজন্য সরাসরি ব্লগার ব্লগে লগইন করতে হবে। এরপর Layout অপশনে গিয়ে Add a gadget এ ক্লিক করে  সবার প্রথমে থাকা AdSense সিলেক্ট করতে হবে। এরপর বিজ্ঞাপনের Size এবং Color নির্বাচন করে Save করতে হবে। সবশেষে আগের মতো Save Arrangement এ ক্লিক করলেই কাজ শেষ। এখন ব্লগটি View করলে নির্দিষ্ট জায়গায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হতে থাকবে।



    ব্লগ পোস্ট বা আর্টিকেলের ভেতরে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে চাইলে এজন্য দুটি পদ্ধতি আছে। বিষয়টি খুবই সহজ।

    ব্লগ পোস্ট বা আর্টিকেলের ভেতরে প্রদর্শন করার জন্য In article ad সবচেয়ে ভালো। ইচ্ছে করলে Text/Display ads ও প্রদর্শন করা যায়। উল্লেখ্য যে একটি এড ইউনিট দিয়েই একটি ব্লগের যতখুশি তত জায়গায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যায়। এমনকি একটি Ad unit দিয়ে একাধিক ওয়েবসাইটেও বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যায়।

    প্রথম পদ্ধতিতে প্রথমে গুগল এডসেন্স একাউন্ট থেকে একটি In article ad ইউনিট তৈরি করে কোডটি কপি করতে হবে। এরপর ব্লগারে লগইন করে Settings > Posts,Comments and Sharing এ ক্লিক করে উপরের দিকে Post Template এর পাশে Add এ ক্লিক করে কপি করা কোডটি বক্সের ভেতরে পেস্ট করতে হবে। এখন উপরের দিকে অবস্থিত Save Settings এ ক্লিক করে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে।

    এবার New post এ ক্লিক করে বামপাশে উপরের দিকে Compose, HTML থেকে HTML এ ক্লিক করলে কোডটি দেখা যাবে। এখন Compose এ ক্লিক করে পোস্ট লিখে পাবলিশ করলে লেখার ভেতরে বিজ্ঞাপনটি যথাস্থানে দেখা যাবে। এভাবে যতবারই নতুন পোস্ট করা হবে ততবারই বিজ্ঞাপনটি পোস্টের ভেতরে দেখা যাবে। তবে এভাবে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে যেমনঃ
    • কোডটি Post Template এ সেভ করার পরে যতগুলো নতুন পোস্ট করা হবে তার সবগুলোতেই বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শিত হবে কিন্তু আগের পোস্টগুলোতে বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শিত হবেনা।
    • বিভিন্ন পোস্টের আকার বিভিন্নরকম অর্থাৎ ছোট বড় হয়। ছোট পোস্টে আমরা একটি বা দুটি এবং বড় পোস্টে তিন থেকে পাঁচটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকি। আবার লেখার বিষয়বস্তু অনুসারে একেকটি পোস্টে একেক জায়গায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এ পদ্ধতিতে প্রতিটি লেখার ভেতরে নিজের ইচ্ছেমতো জায়গায় এবং ইচ্ছেমতো সংখ্যায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানো যাবেনা।


    এবার আসি ২য় পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিটি যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ কিন্তু সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এজন্য ব্লগারে লগইন করে New post এ ক্লিক করে সম্পূর্ণ পোস্টটি প্রথমে লিখে ফেলতে হবে। এরপর উপরের দিকে বামপাশে HTML এ ক্লিক করে পোস্টটির যেখানে যেখানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানোর ইচ্ছে সেখানে বিজ্ঞাপনের কোডটি পেস্ট করতে হবে। এরপর সেভ করে পোস্টটি পাবলিশ করলেই কাজ হয়ে যাবে। এখন পোস্ট ভিউ হলে নির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে কোনো সমস্যা ছাড়াই বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হতে থাকবে।

    এই হলো ব্লগার ব্লগে গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানোর পদ্ধতি। এ ব্যাপারে আপনাদের কোনো অভিজ্ঞতা অথবা প্রশ্ন থাকলে আমাদেরকে জানাতে পারেন।